লোভ (الْحِرْصُ) (পাঠ ১১)

সপ্তম শ্রেণি (মাধ্যমিক) - ইসলাম শিক্ষা - আখলাক | NCTB BOOK
959
Summary

লোভের সংজ্ঞা ও কুফল

লোভের আরবি শব্দ 'হিরছুন' (حُصُ) অর্থ হল লালসা, লিপ্সা, মোহ, আকাঙ্ক্ষা ও ইচ্ছা। অধিক পাওয়ার ইচ্ছাকে লোভ বলা হয়, যেমন অর্থ, পদমর্যাদা, খাদ্য ও পোশাকের ক্ষেত্রে।

লোভের কুফল

লোভ মানুষের শান্তি বিনষ্ট করে ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দিকে ধাবিত করে, যেমন চুরি, ডাকাতি ও কালোবাজারি। লোভী ব্যক্তি অন্যের সম্পদের প্রতি লোলুপতা প্রকাশ করে, যা ইসলাম নিষিদ্ধ করেছে। মহানবী (স.) বলেছেন, "লোভ থেকে বাঁচো, কেননা এটি পূর্ববর্তীদের ধ্বংস করেছে।"

লোভ থেকে মুক্তির উপায়

  • ধৈর্য এবং অল্পে তুষ্ট থাকা
  • তকদিরের ওপর বিশ্বাস রাখা
  • সহজ জীবনযাপন

মহানবী (স.) বলেছেন, "বান্দার ভাগ্যে যা নির্ধারিত আছে তার অতিরিক্ত সে পাবে না।"

শিক্ষার্থীদের জন্য: লোভের কুফল ও বর্জনের উপায় নিয়ে আলোচনা করে একটি তালিকা তৈরি করতে হবে।

লোভ-এর আরবি প্রতিশব্দ 'হিরছুন' (حُصُ) এর অর্থ লালসা, লিপ্সা, মোহ, আকাঙ্ক্ষা, ইচ্ছা ইত্যাদি। অধিক পাওয়ার ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষাকে লোভ বলে। যেমন: অর্থ-সম্পদের লোভ, পদমর্যাদার লোভ, খাদ্যদ্রব্যের লোভ, পোশাক-পরিচ্ছদের লোভ ইত্যাদি।

লোভের কুফল

লোভ মানুষের মনের শান্তি বিনষ্ট করে। অধিক পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা মানুষকে সারাক্ষণ বিভোর রাখে। ফলে নিজের কাছে যা আছে তাতে তুষ্ট না থেকে আরও পাওয়ার আশায় সে অস্থির থাকে। লোভ মানুষকে নানা প্রকার অপরাধমূলক কাজের দিকে ধাবিত করে। চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি, কালোবাজারি, মজুদদারি, দ্রব্যে ভেজাল দেওয়া, সুদ-ঘুষ খাওয়া ইত্যাদি অপরাধমূলক কাজ লোভের কারণেই সংঘটিত হয়।

লোভী ব্যক্তি অন্যের ধন-সম্পদের প্রতি লোলুপ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে এবং অবৈধ উপায়ে তা হস্তগত করার চেষ্টা করে। ইসলাম এরূপ লোভকে নিষিদ্ধ করেছে। প্রিয় নবি (স.) বলেছেন, 'তোমরা লোভ-লালসা থেকে বেঁচে থাক। কেননা এই জিনিসই তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে ধ্বংস করেছে এবং পরস্পরকে রক্তপাত ঘটানোর ব্যাপারে উস্কে দিয়েছে। আর এই লোভ-লালসার কারণেই তারা হারামকে হালাল সাব্যস্ত করেছে।' (সহিহ্ মুসলিম)
খাদ্যের প্রতি লোভে অনেকে মাত্রাতিরিক্ত খায়। এতে সে নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। আবার কখনো তা তার জীবন নাশেরও কারণ হয়। আর তাই কথায় বলে, 'লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু।'

লোভ থেকে বাঁচার উপায়

ধৈর্য এবং অল্পে তুষ্টির গুণ থাকলে লোভ-লালসা থেকে মুক্ত থাকা যায়। রাসুল (স.) বলেছেন, 'ইমান এবং লোভ এক অন্তরে একত্রিত হতে পারে না, কেননা ইমানের পরিনাম হচ্ছে ধৈর্য, তাওয়াক্কুল এবং অল্পে তুষ্ট থাকা।' (নাসাই ও তিরমিযি)

তকদিরের উপর বিশ্বাস রাখা লোভ দমনের প্রধান উপায়। মহানবি (স.) বলেন, ‘হে মানবমণ্ডলী! তোমরা চাওয়ার ক্ষেত্রে উত্তম পন্থা অবলম্বন কর। কেননা বান্দার ভাগ্যে যা নির্ধারিত আছে তার অতিরিক্ত সে পাবে না।’ (হাকিম)
জীবনযাপনের ক্ষেত্রে সহজ-সরল পথ অবলম্বন করলে লোভ বর্জন করা সম্ভম্ব হয়। আমরা লোভের কুফল জানব। লোভ বর্জন করব। তকদিরে বিশ্বাস করব। অল্পে তুষ্ট থাকব। নিজেরা সুখে থাকব। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করব।

দলগত কাজ : শিক্ষার্থীরা কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে লোভের কুফল আলোচনা করে লোভ বর্জনের উপায়গুলোর একটি তালিকা তৈরি করবে।
Content added By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...